স্তন ক্যান্সার
ব্রেস্ট বা স্তন মা ও মেয়েদের মাতৃত্ব ও সৌন্দর্যের প্রতীক শৈশব থেকে এই সময়ের মধ্যে নারীত্ব পূর্ণতা লাভ করে। এই স্তনে ক্যান্সার মরণব্যাধি বাসা বাধতে পারে যে কোন সময় এবং সচেতন না হলে কেড়ে নিতে পারে আপনার মহামূল্যবান প্রাণ। নারী পুরুষ উভয়েরই স্তন ক্যান্সার হতে পারে, তবে নারীদের মধ্যেই এর প্রবণতা বেশী। সারা বিশ্বে প্রতি বছর ২৩ লক্ষ মানুষ এতে আক্রান্ত হচ্ছে, আর প্রায় সাত লক্ষ মারা যাচ্ছে এবং প্রতি বৎসরই এটা বেড়ে চলেছে। বিশ্বে প্রতি ৪ জন নতুন ক্যান্সারের ১ জন স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে আর মৃতদের ৬ জনের ১ জন মারা যাচ্ছে এই স্তন ক্যান্সারে।
একাধারে অনেক দিন জন্ম নিরোধক বড়ি খেলেও স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। উপরোক্ত কারণগুলি ব্রেস্ট ক্যান্সারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে এগুলোই একমাত্র কারণ নয়।
কি করে স্তন ক্যান্সার বুঝবেন :
১। সাধারণত ৩০ বৎসর এর পূর্বে এই রোগ কম হয়।
২। বেশির ভাগ রোগী বুকে চাকা নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়।
৩। বুকে চাকা সেই সাথে কিছু কিছু রোগী ব্যথার কথাও বলে থাকে।
৪। কখনো কখনো বুকে চাকা এবং বগলেও চাকা নিয়ে রোগী আসতে পারে।
৫। নিপল ডিসচার্জ এবং নিপল ভিতরের দিকে ঢুকে যাওয়া ও এ রোগের লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
৬। কিছু কিছু রোগী বুকে ফুলকপির মত ঘা নিয়ে ডাক্তার এর কাছে আসে।
৭। অনেক সময় যে বুকে ব্যথা সেদিকের হাত ফোলা নিয়েও আসতে পারে।
৮। এগুলো ছাড়া ব্রেস্ট ক্যান্সার দূরবর্তী কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে এমন উপস্বর্গ নিয়ে আসে যেমন : হাড়ে ব্যথা, মাথা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও জন্ডিস ইত্যাদি।
কিভাবে রোগ নির্ণয় করা যাবে :
১। মেমোগ্রাম বা স্তনের বিশেষ ধরনের এক্স রে
২। স্তনের আলট্রাসনোগ্রাম
৩। চাকা বা টিউমার থেকে রস (এফএনএসি) নিয়ে পরীক্ষা করলে এই রোগ ধরা পড়বে।
ব্রেস্ট ক্যান্সারে কি কি চিকিৎসা আছে :
ক্যান্সার কোন স্তরে ধরা পড়ল তার উপরই চিকিৎসা নির্ভর করে। তাই বলা হয় সম্ভব হলে সার্জারি করাই উত্তম। তাছাড়া কেমোথেরাপি, রেডিও থেরাপি, হরমোন থেরাপি ইত্যাদি।
কিভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ ধরা যায় :
১। ৩০ বৎসর এর বেশি বয়স হলে নিজে নিজে ব্রেস্ট পরীক্ষা করতে হবে। কোন চাকা পাওয়া যায় কি না। চাকা পাওয়া গেলে সাথে সাথে ডাক্তার এর শরণাপন্ন হতে হবে।
২। বয়স ৫০-এর উপরে হলে বছরে ১ বার মেমোগ্রাম করতে হবে।
৩। কোন প্রকার সন্দেহ হলে ডাক্তারের সাথে দেখা করতে হবে।
এই রোগ এড়ানোর উপায় কি?
যেহেতু রোগটির নির্দিষ্ট কোন কারণ জানা যায়নি। তাই এই রোগ এড়ানোর জন্য কয়েকটি নিয়ম মেনে চলার জন্য পরামর্শ দেয়া হয় :
১। ৩০ বৎসর বয়স থেকে নিজে নিজে ব্রেস্ট পরীক্ষা করুন।
২। রিস্ক ফ্যাক্টর থাকলে সে ক্ষেত্রে মেমোগ্রাফি করুন। যেমন : ফ্যামিলিতে ব্রেস্ট ক্যান্সার থাকলে।
৩। ৩০ বছর বয়সের মধ্যে ১ম সন্তান জন্ম দেয়ার চেষ্টা করুন।
৪। সন্তানকে বুকের দুধ পান করান।
৫। টাটকা শাক সব্জি ও ফল খান।
৬। সন্দেহ হলে ক্যান্সার সার্জনের শরণাপন্ন হন।
উপসংহার :
মনে রাখবেন প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নিরুপন করলে এবং চিকিৎসা করলে আপনি অনেকদিন সুস্থ থাকবেন। সার্জারি করার সময় টিউমারটি বগলে লসিকা গ্রন্থিসহ অপসারণ করলে এই রোগ পুন:বার দেখা দেয়ার সম্ভাবনা খুব কম। অসম্পূর্ণভাবে টিউমার অপসারণ করলে এই রোগ আবার হতে পারে। বর্তমানে অপারেশন টেকনোলজী অনেক উন্নতি লাভ করেছে যার ফলে এই রোগের চিকিৎসা এখন বাংলাদেশের অনেক স্খানেই করা সম্ভব। তাছাড়া এডভান্স ব্রেস্ট ক্যান্সারে এখন টিউমার ফেলে দিয়ে ব্রেস্ট এরিয়া রিকন্সট্রাকশও করা হচ্ছে।
অধ্যাপক ডা. এম এ হাসেম ভূঁঞা
জেনারেল ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ
উত্তরা ক্রিসেন্ট ডায়াগনোস্টিক এন্ড কনসাল্টেশন সেন্টার,
ফোন : ০৯৬৬৬৭১০৬৬৫: ০১৭১১৫৩৩৩৭৩।

0 Comments for "স্তন ক্যান্সার"